
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে আরও এক হিন্দু ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম সুষেণচন্দ্র সরকার (৬২)। তিনি ময়মনসিংহের বাসিন্দা এবং পেশায় চাল ব্যবসায়ী ছিলেন। সোমবার গভীর রাতে বগার বাজার চৌরাস্তায় তাঁর দোকানের ভিতর থেকে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে সুষেণচন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তাঁর ছেলে। বারবার ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় তিনি দোকানে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন দোকানের শাটার বন্ধ থাকলেও তালা দেওয়া ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় তিনি শাটার খুলে ভিতরে ঢুকে দেখেন, তাঁর বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর চালের বস্তা দিয়ে দেহ ঢেকে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা। পাশাপাশি দোকান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার চাল লুট হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চলছে। ব্যবসায়ীদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। তাঁদের অনুমান, চাঁদার টাকা না দেওয়ার কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। একই সঙ্গে কিছু বাসিন্দা মৌলবাদী সংগঠনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকেই দেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির খুনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সময়ে দীপু দাস নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
ভোটের মুখে ফের এই হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী দিনে নতুন সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
