
কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি পেলেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর বেঞ্চ তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। আদালতের এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলসহ বিনোদন জগতেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও জামিন পাওয়ার পর এদিন প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি হিরণ।
ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে। ২০ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং মডেল-অভিনেত্রী হৃতিকা গিরির বিয়ের ছবি ভাইরাল হয়। এরপরই অভিনেতা-বিধায়কের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ তুলে তিনি আইনি পদক্ষেপের কথা জানান। পরদিন রাতেই মেয়েকে নিয়ে আনন্দপুর থানায় গিয়ে হিরণের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অনিন্দিতা।
অভিযোগে অনিন্দিতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর মেয়ে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিবাহিত অবস্থাতেই হিরণ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। এই ঘটনায় তিনি হৃতিকা গিরির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮২(১), ৮৫ এবং ৫৪ ধারায় মামলা রুজু করে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষিতেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন খড়্গপুর সদরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার সেই আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে রয়েছেন অভিনেতা-বিধায়ক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আইনি স্বস্তি হিরণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও মামলার মূল শুনানি ও তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলবে বলে জানা গেছে। ফলে আগামী দিনে এই মামলার অগ্রগতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।
