
সুপ্রিম কোর্টে লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে মামলার শুনানিতে মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ওয়াংচুককে কোনওভাবেই জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, গান্ধীর প্রসঙ্গ শুধুমাত্র একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বোঝাতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে থাকা ওয়াংচুককে নিয়ে আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডকে কোনওভাবেই মহিমান্বিত করা উচিত নয়। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনও ব্যাখ্যা সামনে না আসে, যেখানে ওয়াংচুককে গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে মনে হয়।
শুনানির সময় সরকার ওয়াংচুকের বক্তব্য এবং তাঁর প্রতিবাদ কর্মসূচির ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সেই প্রসঙ্গে আদালত মহাত্মা গান্ধীর শেষ অনশন সংক্রান্ত ভাষণের উল্লেখ করে জানায়, কোনও বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে হলে সেটিকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা জরুরি। আদালত স্পষ্টভাবে বলে, বক্তব্যের কয়েকটি অংশ আলাদা করে তুলে ধরে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
সরকারি পক্ষ দাবি করে, ওয়াংচুকের বক্তব্যে নেপালের মতো সহিংস আন্দোলনের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে আদালত সেই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চায়। বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, ওয়াংচুক নিজেই তাঁর বক্তব্যে সহিংসতার বিরোধিতা করেছেন এবং গান্ধীবাদী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ দেখিয়ে তাঁর মুক্তির দাবি তোলা হলেও কেন্দ্র জানায়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তিনি সুস্থ রয়েছেন। তাই শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই আদালতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল। তবে বুধবারের শুনানিতে কেন্দ্র নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
