
ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সংসদে তিনি অভিযোগ করেন, মূল্য-সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধ বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিয়ে কেন্দ্র কার্যত দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, “ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিলেন, লজ্জা করে না?”
রাহুল গান্ধীর দাবি, এই চুক্তির ফলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি জানান, আগে যেখানে আমেরিকার পণ্যের উপর গড় শুল্কহার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ, নতুন চুক্তির ফলে তা বেড়ে প্রায় ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁর অভিযোগ, এতে ভারতের বাজার আমেরিকার পণ্যের জন্য আরও উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আমেরিকার পণ্যের আমদানি ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।
রাহুল আরও বলেন, চুক্তির একটি ধারায় ভারতের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই চুক্তিতে ভারতের পক্ষেই বেশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, অথচ আমেরিকার তরফে তেমন কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তাঁর অভিযোগ, দেশের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেননি।
রাহুলের এই মন্তব্যের জবাবে সংসদীয় কাজকর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি রাহুলকে তথ্য-প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানান এবং দাবি করেন, কংগ্রেস আমলেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে কৃষি, পশুপালন এবং বস্ত্র শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিয়েছে, দেশের কৃষিক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
