
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফের আলোচনায় এসেছে বেলডাঙা হিংসা মামলা। জানুয়ারি মাসের শুরুতে এক শ্রমিককে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছিল এবং রেলও অবরোধ করা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে মারধর এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-দগ্ধ করার ঘটনা ওঠে।
ঘটনার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি NIA-র তত্ত্বাবধানে আসে। কিন্তু বৃহস্পতিবারও অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তদের NIA বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়নি। জানা গেছে, বহরমপুর জেল থেকে পুলিশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পুলিশ পাওয়া যাচ্ছেনা। এজন্য ‘হাই রিস্ক প্রিজনার’দের আদালতে সরাসরি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে পেশ করার আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবাদ এবং উত্তেজনা আগেও ঘটেছিল। ঘটনার তদন্ত চলাকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল।
বেলডাঙা মামলার এই ঘটনার মাধ্যমে ফের প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে। অভিযুক্তদের সশরীরে আদালতে উপস্থিতি না করানোয় মামলা আরও জটিলতার মুখে পড়ছে। NIA জানিয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ঘটনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তবে স্থানীয় মানুষের উত্তেজনা এবং অভিযোগের মাত্রা আদালতের কার্যক্রমকে বারবার প্রভাবিত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
