
পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের মানচিত্রে দেখানোর কারণে পাকিস্তান আমেরিকার কাছে আপত্তি জানিয়েছে। অভিযোগের জেরেই আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ দফতরের ৭ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা মানচিত্রটি ১২ ফেব্রুয়ারি মুছে ফেলা হয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, “আমরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা বুঝতে পারেন, মানচিত্রটি ভুল।” তবে পোস্ট মুছে ফেলার পেছনের সঠিক কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
মানচিত্রটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়েছিল, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত থেকে আমেরিকায় কোন কোন পণ্য অল্প শুল্কে বা শুল্কমুক্ত ঢুকবে, তা দেখানো যায়। সবুজ প্রেক্ষাপটের ওপর হলুদ রেখায় আঁকা ওই মানচিত্রে সমগ্র কাশ্মীরকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, পাশাপাশি আকসাই চিনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই দুই অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ রয়েছে। ভারত বারবার উল্লেখ করেছে যে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ এবং আকসাই চিন লাদাখের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানচিত্রটি প্রকাশের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা ও পাকিস্তানি পক্ষকে ইঙ্গিত দিতে চেয়েছিল যে, পিওকে এবং আকসাই চিন ভারতেরই অংশ। তবে পোস্ট মুছে ফেলার পর এই বার্তাটি কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। ভারতের সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত অবস্থান এতে ক্ষুণ্ণ হয়নি। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানচিত্র অনুযায়ী এই দুই অঞ্চল ভারতের অংশ হিসাবেই চিহ্নিত। হোয়াইট হাউসের সিলমোহর থাকলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালীভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফুটে উঠত।
ঘটনাটি ভারতের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চূড়ান্ত সতর্কতার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।
