
মহারাষ্ট্রের পুনেতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলায় কথা বলায় খুনের অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শুক্রবার পুরুলিয়ায় মৃত বাংলার পরিচয় শ্রমিক সুখেন মাহাতোর বাড়িতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন পুরুলিয়ার মাটিতে পা রেখেই বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারকে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, অন্য রাজ্যগুলিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না, শুধু বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হত্যা করা হচ্ছে? ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিটি ব্লক টাউনে মিছিলের ঘোষণা করেন তৃণমূল সাংসদ। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরে বলেন, কি কারনে খুন? কি কারনে হত্যা করা হলো? সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। পরিবারকে আইনি সাহায্যের আশ্বাস দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। দোষীদের যেন কঠোর শাস্তি হয়। ২৫ তারিখের মধ্যে ঘটনার যদি কোন সুরাহা না হয় তবে পরিবারের কয়েকজন নিয়ে আমাদের বিধায়কদের প্রতিনিধি দল পাঠাবো। আইনি লড়াই পরিবার লড়বে, দলের পক্ষ থেকে আইনি সহযোগিতা করা হবে। এটা আমাদের দায়বদ্ধতা, বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের দাবি, বাংলায় কেস ট্রান্সফার করে দিক, ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে দেখাবো। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তবে আরও কয়েকজন যুক্ত আছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের কঠোর শাস্তি হোক এটাই চাই।
বিজেপির উদ্দেশ্যে অভিষেকের বার্তা, আমি আশা করব যারা মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছেন, তারা এইটুকু করতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফারনবিশকে ফোন তুলে বলবেন, পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো,৩১ বছর বয়স, তাঁকে খুন করা হয়েছে, আমরা এর সুবিচার চাই।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে অভিষেক বলেন, যারা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তারা কেউ রেহাই পাবে না। এর জন্য যতদূর যেতে হয়, ততদূর যাব। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট যেখানে যেতে হয় যাব। সে যেই যুক্ত থাকুক না কেন। যারা নিরীহ প্রাণ কেড়ে নেয় তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিতে হবে। সুখেনের দুই ভাইকে তাদের চাকরির ব্যবস্থা যাতে এখানেই করে দেওয়া হয় তা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব, যাতে পুরুলিয়াতেই কর্মসংস্থান করা যেতে পারে, পরিবারের কাউকে বাইরে না যেতে হয়। পুরুলিয়া থেকে বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
