
ভোট বড় বালাই! আর সেই ভোটের বৈতরণী পার হতে এবার সরাসরি সরকারি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ভাঙড়ের ভোগালী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মোদাসসের হোসেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যে যে বুথে তৃণমূল হারবে, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে ঘর তৈরির টাকা কিংবা রেশনের চাল—সবই বন্ধ করে দেওয়া হবে। নেতার এই বেলাগাম মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে মোদাসসের হোসেনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, দলীয় স্তরে বুথ ভিত্তিক কাটাছেঁড়া করা হবে। তাঁর কথায়, “ভোগালীতে ১৮টি বুথ আছে। দেখা যাবে ১৫টি বুথে আমরা জিতে গিয়েছি, কিন্তু ৩টি বুথে হেরে গিয়েছি। যেখানে আমরা হারব, সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা, ঘর করার টাকা সব বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, শ্যামপুকুর, চালতেবেড়ে বা বলিহাট ২-এর মানুষ ইতিমধ্যেই এই পরিণতির কথা বুঝতে পারছে। তৃণমূলের এই প্রাক্তন প্রধানের দাবি, তাঁরা গ্রামের মানুষের জন্য উন্নয়নের টাকা নিয়ে এসেছেন। তাই বিনিময়ে ভোট দেওয়াটাকেই তিনি দস্তুর বলে মনে করছেন। সাধারণ মানুষকে কার্যত শাসানির সুরে তিনি বলেন, “তৃণমূল করো, ভোট দাও এবং সব সুযোগ-সুবিধা নাও। নাহলে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনবে।”
দীর্ঘ ৩৫ বছরের বাম শাসনকে একহাত নিয়ে মোদাসসের হোসেন বলেন, “বামফ্রন্ট সরকার ৩৫ বছরে মানুষকে একটা ঘুণ্সি অবধি দেয়নি, অথচ এখন তারা বড় বড় কথা বলছে।” বিরোধীরা প্রায়ই বলেন কোন সরকারি প্রকল্পের টাকা কোনো নির্দিষ্ট নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং তা জনগণের ট্যাক্সের টাকা।এর পাল্টা জবাবে প্রাক্তন প্রধান বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আই এস এফ বলে টাকা কি সওকত মোল্লার? বামেরা বলেছে টাকা তো জনগণের ট্যাক্সের টাকা। আমি বলি, এই টাকা তো নশাদ সিদ্দিকীরও নয়!” তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার গ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য টাকা এনেছে, তাই মানুষের উচিত তৃণমূলকে ভোট দিয়ে সেই সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখা। অন্যথায়, “নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনবে” বলে ভোটারদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন তিনি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন বা পাবেন না, তা দলীয় ‘সার্ভে’র ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন এই নেতা। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এমনভাবে বুথ ধরে ধরে সমীক্ষা করবে যে, পরাজয়ের জায়গায় সরকারি সুবিধা পৌঁছানো বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন স্থানীয় নেতৃত্বের আর কিছু করার থাকবে না বলে তিনি ভোটারদের প্রচ্ছন্ন ভয় দেখান।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। কিন্তু ভাঙড়ের এই দাপুটে নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই অধিকার এখন শাসকদলের প্রতি আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল। বিরোধীদের দাবি, পরাজয়ের ভয়েই এখন উন্নয়নের বদলে ধমক আর চমকের রাজনীতিকে হাতিয়ার করছে শাসকদল। তবে এই হুমকি ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, না কি ব্যালট বাক্সে এর উল্টো প্রতিফলন ঘটবে, তা সময়ই বলবে।।
