
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর কড়া বার্তা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার ঢাকার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানালেন, নতুন সরকার কোনও ধরনের হিংসা, বিশৃঙ্খলা বা বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না। তাঁর কথায়, “এই বিজয় বাংলাদেশের মানুষের, গণতন্ত্রের। কিন্তু বিজয়ের উচ্ছ্বাসে আইনভঙ্গ চলবে না।”
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের আবহ তৈরি হলেও, বিএনপি নেতৃত্বকে সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক। তিনি জানান, সম্ভাব্য উস্কানি এড়াতেই বিজয় মিছিল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। “শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রথম কাজ,” বলেন তিনি। দলমত বা ধর্ম নির্বিশেষে দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
সরকার গঠনের আগে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তাঁর দাবি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা এবং অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এই তিন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে নতুন সরকারকে। তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইন সমান হতে হবে।”
বিদেশনীতি প্রসঙ্গেও স্পষ্ট অবস্থান জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তারেক বলেন, “বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে। প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য হবে।” ভারত, পাকিস্তান বা চিন, কোনও দেশের ক্ষেত্রেই আলাদা অবস্থান নেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
দিন তিনেকের মধ্যেই নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তারেক রহমানের এই সংযত ও কঠোর বার্তা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
