
‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্কে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের কঠোর অবস্থান নিল Election Commission of India। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে সাসপেন্ড করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি। একাধিকবার সতর্কবার্তার পরও নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় এবার সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যসচিব Nandini Chakraborty-কে দিল্লিতে তলব করে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে—মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কমিশনের দাবি, আগের পাঁচ দফা নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, সে বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস চেয়েছে কমিশন। অন্যদিকে বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধানের বিরুদ্ধেও কমিশনের অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি বলেই কমিশনের দাবি।
এদিকে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সতর্ক করে বলেন, কোনও বিদেশি বা অযোগ্য ভোটারের নাম যেন চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal-ও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিরপেক্ষ যাচাই করেই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাই বাকি। আপাতত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় সর্বাধিক অনুপস্থিত ভোটার ধরা পড়েছে। কমিশনের কড়া নজরে এখন গোটা প্রক্রিয়া।
