
আর জি কর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভেতরে এক মহিলা প্রধানকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাঁর নিজের কার্যালয়ে বসে এক মহিলা প্রধানকে জোরপূর্বক ‘চুমু’ খেয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এমনকি অভিযুক্ত সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিজেপি।
এদিন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিজের অফিসে বসে এক আদিবাসী মহিলা প্রধানের শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই মহিলার ভাই আমার কাছে এসে কান্নাকাটি করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, যে দলের নেতারা সরকারি কার্যালয়ে এমন জঘন্য কাজ করার সাহস পান, তাদের নৈতিকভাবে পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। শুভেন্দু সোমবারের মধ্যে ওই সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেছেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সোমবার বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যরা ঝাঁটা হাতে ওই অফিস ঘেরাও করবেন। সভাপতির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
তৃণমূল সরকারের মহিলাদের স্বনির্ভর করার দাবিকে এদিন ‘প্রহসন’ বলে দেগে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “তৃণমূল একদিকে মহিলাদের স্বনির্ভরতা নিয়ে বড় বড় কথা বলে, আর অন্যদিকে তাদের দলের সভাপতিরা এই কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন। এটা স্বনির্ভরতা নয়, প্রহসন।” সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম না করে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “১০০০-১৫০০ টাকা দিয়ে এই সরকার রাজ্যের মহিলাদের কিনতে চাইছে। এটাই কি বাংলার একজন মহিলার আত্মসম্মানের মূল্য? সামান্য কিছু টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা যাবে না।”
তৃণমূল সরকারের মহিলাদের স্বনির্ভর করার দাবিকে এদিন ‘প্রহসন’ বলে দেগে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “তৃণমূল একদিকে মহিলাদের স্বনির্ভরতা নিয়ে বড় বড় কথা বলে, আর অন্যদিকে তাদের দলের সভাপতিরা এই কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন। এটা স্বনির্ভরতা নয়, প্রহসন।” সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম না করে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “১০০০-১৫০০ টাকা দিয়ে এই সরকার রাজ্যের মহিলাদের কিনতে চাইছে। এটাই কি বাংলার একজন মহিলার আত্মসম্মানের মূল্য? সামান্য কিছু টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা যাবে না।”
পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আর জি কর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডের উদাহরণ টেনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহিলারা আজও নিরাপদ নন। তিনি বলেন, “সেদিন হাসপাতালে অভয়া যেমন সেফ ছিলেন না, আজও এই কার্যালয়ে তেমনই কিছু বড় অঘটন ঘটে যেতে পারত।” এই ঘটনার জন্য সরাসরি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, বিডিও-র উচিত ছিল তৎক্ষণাৎ ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পুলিশে এফআইআর দায়ের করা।
অভিযুক্ত ওই নেতা তৃণমূলের শ্রমিক শাখার জেলা চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, “তৃণমূল আসলে ধর্ষকদের পার্টি। এই লোকটি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাই এই ঘটনার দায় সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে নিতে হবে। তাঁদের উত্তর দিতে হবে কেন দলীয় পদে থেকে একজন ব্যক্তি এমন সাহস দেখান।”
আগামী সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পঞ্চায়েত স্তরের এই অভিযোগ যে আগামী দিনে রাজনীতির ময়দানকে আরও তপ্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য।।
