
রাজ্য সরকারের নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প ‘যুবসাথী’ ঘিরে তুঙ্গে উৎসাহ। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার খবরও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং ক্যাম্পের ওপর চাপ কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। এখন থেকে আর কেবল ক্যাম্প নয়, ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন ইচ্ছুক প্রার্থীরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিক নির্দেশ ছিল, অনলাইন থেকে ফর্ম ডাউনলোড করলেও তা পূরণ করে সশরীরে ক্যাম্পে গিয়ে জমা দিতে হবে। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি আবেদনের দ্বিতীয় দিনেই দেখা যায় অভাবনীয় ভিড়। জনসমুদ্রের চাপে অনেক জায়গাতেই প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই নবান্ন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় যে, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমেও চালু করা হবে। এর ফলে ব্লকে বা পুরসভায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝক্কি অনেকটাই কমবে।
অনলাইনে আবেদন করার জন্য রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল https://apas.wb.gov.in-এ যেতে হবে। আবেদনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ রাখা হয়েছে:
১. রেজিস্ট্রেশন: পোর্টালে ঢুকে ‘Click to Apply’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সারতে হবে।
২. ফর্ম পূরণ: মোবাইল নম্বরে ওটিপি (OTP) আসার পর সেটি দিয়ে লগ-ইন করলে মূল আবেদনপত্রটি খুলে যাবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যাংক ডিটেইলস নির্ভুলভাবে ভরতে হবে।
৩. নথি আপলোড: প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করার পর ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হবে।
৪. প্রাপ্তি স্বীকার: আবেদন শেষে জেনারেট হওয়া স্বীকৃতি পত্র বা একনলেজমেন্ট স্লিপটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখতে হবে। এটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।
যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে:—
আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম মাধ্যমিক পাস হতে হবে।যদি কেউ ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের অন্য কোনো জনমুখী বা আর্থিক প্রকল্পের সুবিধাভোগী হন, তবে তিনি এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। তবে কেউ যদি কোনো স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে যুবসাথীর আবেদন করতে তাঁর কোনো বাধা নেই।প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই ভাতা দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মসংস্থান না হলে সরকার পুনরায় বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।
অনলাইন সুবিধা চালু হলেও পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে ক্যাম্পগুলোতেও আবেদন জমা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারি আধিকারিকরা নির্দিষ্ট ক্যাম্পে উপস্থিত থাকছেন। যারা অনলাইনে স্বচ্ছন্দ নন, তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করতে পারেন এবং সেখান থেকেই হাতে হাতে রসিদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
নবান্নর এই সময়োচিত সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।।
