
কলকাতা: মাত্র ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে লাগাতার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল পাঁচ প্রতিবেশী নাবালককে। রবিবার ভোরে অসুস্থ বোধ করছিল নাবালিকা, এরপর মা খেয়াল করেন মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণ। সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে তিনি তড়িঘড়ি বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানান।
প্রতিবেশী পাঁচ নাবালকের বিরুদ্ধে পকসো এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ ও অপরাধমূলক আচরণের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশি সূত্রে জানা যায়, ধৃতদের প্রত্যেকের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঘটনা গণধর্ষণ নাকি একক ধর্ষণ তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ ধৃত নাবালকদের সাধারণভাবে গ্রেফতার করেনি। কারণ প্রত্যেকেরই বয়স ১৮ বছরের কম। তাই তাদের সরকারি হোমে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ধৃতদের বিধাননগর জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়। সেখানে পুলিশ হেফাজতে রাখার অনুরোধ জানায়।
একই দিনে খাস কলকাতার কসবা এলাকায়ও নাবালিকার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। সেখানে অভিযুক্ত নাবালককে পুলিশ গ্রেফতার করে আলিপুর আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যকার দূরত্ব সীমিত হলেও পুলিশ তদন্তে জোর দিচ্ছে।
স্থানীয়রা এই নৃশংস ঘটনার পর আতঙ্কিত। ছোটদের বিরুদ্ধে ছোটদের অপরাধ ঘটছে, এটা সমাজের জন্য বড় সতর্কবার্তা। পিতামাতারা বলছেন, “যত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ততই শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”
পুলিশ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালাচ্ছে। সম্প্রতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ধিত নজরদারি ও সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি স্তরের অংশগ্রহণ জরুরি।
এই ঘটনার মাধ্যমে মনে করিয়ে দেওয়া হলো, শিশুদের প্রতি নজরদারি শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, সমাজেরও। যেখানে শিশু সুরক্ষিত থাকবে, সেখানে সমাজও সুরক্ষিত থাকবে।
