
পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১০টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে ভোট নেওয়ার দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ, যাচাই ৬ মার্চ, এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ মার্চ। ভোটগ্রহণ হবে ১৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, এবং গণনা শুরু হবে বিকেল ৫টা থেকে। ২০ মার্চের মধ্যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কারণ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই ৩৭ জন রাজ্যসভার সদস্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আসন শূন্য হওয়ার তালিকায় মহারাষ্ট্রে ৭টি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে ৬টি করে, বিহারে ৪টি, ওড়িশা ও অসমে ৩টি করে, ছত্তীসগঢ়ে ২টি, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে ১টি করে এবং তেলেঙ্গানায় ২টি আসন রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের একটি আসন ইতিমধ্যেই ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শূন্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
রাজ্যসভার এই ভোট জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ উচ্চকক্ষে সংখ্যার সমীকরণ আইন ও নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই এই ভোটের ফল রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলায় বিশেষ নজর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্বে। দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নূর ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলের তিনজন সদস্য সাখেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই রাজ্যসভার ভোট বাংলার রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমান বিধানসভায় আসনসংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হলেও, বিজেপি ও অন্যান্য দলও তাদের প্রার্থীদের জোরদার করছে। ফলে মার্চে এই ভোট রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে রূপ দিতে পারে।
