
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবার নতুন করে সাফল্যের পথে এগোচ্ছে। ২০২৬ সালের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ ও ওবিসি (General/OBC) শ্রেণির মহিলারা এখন মাসে ১,৫০০ টাকা, আর তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়াও অনেক সহজ করা হয়েছে। আগের মতো ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড বাধ্যতামূলক নয়, শুধুমাত্র আধার কার্ড থাকলেই আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তিনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া, কোনো স্থায়ী সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না।
নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে যে, ভাতা পেতে মহিলাদের অবশ্যই নিজস্ব সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানো হলে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড এবং সচল মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা আবশ্যক।
প্রকল্পের সামাজিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘প্রতিচী ট্রাস্ট’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৮৫.৬% মহিলা মনে করেন এই প্রকল্প তাদের ক্ষমতায়িত করেছে। এছাড়া ৬১.১% মহিলা জানিয়েছেন, এই ভাতা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বনির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে।
বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করছেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মহিলাদের হাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা পৌঁছে গেছে। নতুন আবেদনকারীরা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প বা বিডিও অফিস থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। সঠিক নথি জমা দেওয়ার ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে শুরু করবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবার আরও সহজ, আরও বর্ধিত ভাতা ও শক্তিশালী সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য সত্যিই এক গুরুত্বপূর্ণ ধামাকা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
