
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ ২.০’ নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক চুক্তি আলোচনা এখনও চলমান থাকলেও আমেরিকার সামরিক মোতায়েন বৃদ্ধি যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইতিমধ্যেই অঞ্চলটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া, ডজনাধিক যুদ্ধবিমান এবং বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমানকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি না হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
ইরানও নীরব নয়। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানোর ক্ষমতা ইরানের রয়েছে। ইতিমধ্যে ইরান, রাশিয়া এবং চিন যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করেছে, যা আমেরিকার জন্য শক্তিশালী বার্তা। জেনেভায় অমীমাংসিত কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দুপক্ষের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য আরও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে প্রবেশ করবে, নাকি কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত রোধ হবে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলও ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক প্রস্তুতি বিশ্বমঞ্চে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঝুঁকি এবং পারমাণবিক চুক্তি পুনঃউন্মোচনের উপর, যা আগামী সপ্তাহগুলোতে বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।
