
দোড়গোড়ায় কড়া নাড়ছে ভোট! তার আগে রাজনৈতিক দলগুলির রদবদল হোক বা পালাবদল… এটি রাজনৈতিক সমীরণের একটি অংশ। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় ফাটল গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন কার্শিয়াং এর BJP বিধায়ক। এ কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
দার্জিলিংয়ের রাজনীতিতে চমক দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা পদ্ম শিবির ত্যাগ করে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান দিলেন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। এদিন বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিখ্খমন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তার হাতে দলের পতাকা তুলে দেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী।
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই ধরাশায়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণের স্ট্র্যাটেজি বদলাতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক উত্তরবঙ্গ বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবিতে সরব ছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা, যা নিয়ে মাঝেমধ্যেই দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য বা মতবিরোধ তৈরি হতো।
তবে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার এই দলবদলকে আদৌ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির একাংশের দাবি, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। এমনকি পাহাড় সমতলে কোন দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর কোনও যোগ বা দেখা মিলতো না।
এই মূহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, পাহাড় নিয়ে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতি প্রশ্ন তুলে দিল বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার পদত্যাগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাংগঠনিকভাবে বিজেপি ক্ষতিগ্রস্ত তো হলোই তার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের আগে এই ইস্যু বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি করলো।গোর্খাল্যান্ডের সমর্থক বিষ্ণুপ্রসাদ তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়ে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন সেটা সময়ের অপেক্ষা। তবে কী বলা যেতে পারে, পাহাড়ে ফের শক্তিবৃদ্ধি করল শাসকদল?
