
২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বারবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই আইনের বিরোধিতা নিয়ে সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরও আইনের কার্যকারিতা অব্যাহত থাকলেও এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আদালতে থেকে গেছে।
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলার শুনানি আগামী ৫ থেকে ১২ মে পর্যন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুনানি শেষ হওয়ার মাসখানেকের মধ্যে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
এই মামলায় মূল আবেদনকারী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগ। তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, ডিএমকে এবং বিভিন্ন এনজিও যুক্ত হয়েছেন। আবেদনকারীরা আইনটির বৈষম্যমূলক দিক নিয়ে স্থগিতির আবেদন করেছিলেন। তবে ২০২৪ সাল থেকে আইনটি দেশে পুরোপুরি কার্যকর। পশ্চিমবঙ্গসহ অনেক স্থানে এই আইনের আওতায় বহু মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
আইন অনুসারে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিরোধীদল ও নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠন আইনটিকে ধর্মভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কেন্দ্র সরকারের যুক্তি, দেশভাগের সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যারা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন শুধুমাত্র বিদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রদান সংবিধানিক ও বৈধ। আদালত এখন সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত রায় দেবেন।
সর্বোপরি, দেশের আলোচিত এই আইনের বৈধতা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের জন্য সবাই এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে।
