
ওয়াশিংটন: পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে তেহরানের উপর চাপ বাড়াতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মার্কিন প্রশাসন। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, নির্দিষ্ট সামরিক বা সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘ছোটখাটো’ আঘাত হানার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে কয়েক দিনের মধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত।
সূত্রের খবর, এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। লক্ষ্য, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য করা তবে এমনভাবে যাতে তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয়। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে চুক্তির ভবিষ্যৎ।
অন্যদিকে, পাল্টা কড়া বার্তা দিয়েছে Iran। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব Antonio Guterres-কে পাঠানো চিঠিতে তেহরান জানিয়েছে, কোনও আক্রমণ হলে সংশ্লিষ্ট শক্তির আঞ্চলিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে ধরা হবে। সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্ণ দায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আলোচনা এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। জেনেভায় সাম্প্রতিক বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের তরফে আরও কঠোর শর্ত আরোপের ইঙ্গিত মিলেছে। শর্ত না মানলে সীমিত হামলা বৃহত্তর সামরিক অভিযানে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বায়ুসেনার অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সামরিক সম্পদ মোতায়েনের খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক অভিযানের পর এই প্রথম এত বড় আকারে সামরিক প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। আগামী ১০ দিনই নির্ধারণ করতে পারে পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের পথে যাবে, নাকি নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বলবে।
