
ঢাকা: রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কূটনৈতিক স্তরে ইতিবাচক বার্তা বিনিময় শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা ভিসা পরিষেবা ফের চালুর পথে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই ভ্রমণ ভিসা-সহ একাধিক শ্রেণির ভিসা পুনরায় চালু করা হতে পারে।
নতুন সরকার গঠনের পরপরই দিল্লির তরফে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিও সেই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে মূল লক্ষ্য সুসম্পর্ক পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সীমিত আকারে মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধাপে ধাপে পর্যটন ও অন্যান্য ভিসা বিভাগও খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সিলেটের কনস্যুলার দফতর থেকেও জানানো হয়েছে, পূর্ণমাত্রায় পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারগুলিতে পরিষেবা সীমিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর কেন্দ্রগুলি ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় দুই দেশেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছিল।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, অস্থিরতার আগে প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার ভিসা ইস্যু করা হত, যা নেমে আসে প্রায় ১,৫০০-তে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই ফের পূর্ণাঙ্গ ভিসা পরিষেবা চালু হলে পর্যটন, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক যাতায়াতে গতি ফিরবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
