
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে বাড়ছে চাপানউতোর। অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারে ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি এবং নতুন করে যুব সাথী প্রকল্প চালুর ঘোষণাকে ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে। এই দুই প্রকল্প ভোটের আগে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সেই প্রভাব যে বিরোধী শিবিরেও পড়ছে, তা স্পষ্ট রাজ্য কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকের আলোচনাতেই।
দু’দিনের বৈঠকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা বাজেট ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তার ঘোষণা সংগঠনের উপর চাপ তৈরি করছে বলে মত উঠে আসে। এপ্রিল মাস থেকে যুব সাথী প্রকল্প কার্যকর হওয়ার কথা, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। এতে জনমনে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
বৈঠকে আরও উঠে আসে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে প্রার্থী ঠিক হলেও বাকি আসনগুলিতে শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে জট রয়ে গেছে। দ্রুত সমাধান না হলে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে, দলত্যাগের ঘোষণাকে ঘিরেও কিছুটা চর্চা হয়েছে, যদিও প্রথম দিনে তা বড় আকার নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে সামাজিক প্রকল্পগুলির প্রভাব যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই।
