
পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা এবং বয়স সীমা নিয়ে নতুন উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। সদ্য সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতিকুর রহমানকে কেন্দ্র করে দলের যুব প্রজন্মের সম্ভাবনা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঊর্ধ্বসীমা ইঙ্গিতের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাংসদ বা বিধায়ক পদে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে ৭০ বছর। কারণ, তাঁর মতে, একজন মানুষ ৪০–৪৫ বছর বয়সে যেমন সক্রিয়ভাবে দৌঁড়ঝাপ করতে পারেন, ৭০–এর পর সেই সক্ষমতা কমে যায়। তাই নতুন প্রজন্মকে আরও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
এদিন অভিষেকের মন্তব্য দলের প্রবীণ নেতাদের কানে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। অভিষেক বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করতে হলে সদিচ্ছা প্রয়োজন, সবসময় জন প্রতিনিধি হওয়ার দরকার নেই।” এর মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় সংস্কৃতিতে নতুন প্রজন্মের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। যেমন সায়নী ঘোষকে যাদবপুরে প্রার্থী করা হয়েছিল, যিনি এখন সাংসদ।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ৭৭ বছর বয়সী বিধায়ক হয়তো কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে সব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও আছে। অশোক দেব, বজবজের বিধায়ক, বয়স ৭৬ হলেও সক্রিয় ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারণে অভিষেকের গুডবুকে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তা শুধুই বয়স সীমা নয়, বরং দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনার ইঙ্গিত। ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়া নেতাদের প্রভাব কমলেও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা সম্ভব।
প্রতিকুরের তৃণমূলে যোগদান এবং অভিষেকের বয়স সীমার মন্তব্য একসঙ্গে দেখে বোঝা যায়, তৃণমূলের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং দলের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা। ভোটের আগে এই ইঙ্গিত দলের ভিতরে এবং নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
