
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আজ এক নোংরা অধ্যায়ের সাক্ষী। সেই তরুণ নেতা, যে একসময় বামপন্থার “উজ্জ্বল মুখ” বলে পরিচিত ছিল, প্রতীক উর রহমান, হঠাৎ করেই নিজের স্বার্থের জন্য সবকিছু ছেড়ে দিয়েছেন। দলের দীর্ঘ ইতিহাস, সহকর্মীর আবেগ, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, এসব কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। আজ তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু এই যোগদান কেবল একটি দলবদল নয়! এটি স্বার্থপরতার, অহংকারের এবং নৈতিকতার অভাবের চরম উদাহরণ।
প্রতীক উরের এই পদক্ষেপের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো সেলিমকে অপমান করা। তিনি যে সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত ছিল, সেই আবেগকে তুচ্ছ করে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক নেতার কাছে সহকর্মীর অনুভূতি এবং দলের ঐতিহ্য প্রতীকী নয়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। এ ধরনের আচরণ শুধু অশোভন নয়, বরং এক নৈতিক বিপর্যয়।
প্রতীক উরের রাজনীতি কেবল নিজের স্বার্থ, নিজের পরিচয় এবং নিজের রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। যে নেতা নিজের আদর্শ, দল এবং সমর্থকদের উপেক্ষা করে কেবল নিজের সুবিধার জন্য পদক্ষেপ নেন, তিনি রাজনীতিকে কি আদর্শের মঞ্চ হিসেবে দেখেন? না, প্রতীক উরের রাজনীতি মানে কেবল স্বার্থ।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে সিপিএমে তাঁর কথা শোনা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক নেতার দায়িত্ব হলো কঠিন অবস্থাতেও আদর্শ এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু দলের শিষ্টাচার এবং সহকর্মীর আবেগকে উপেক্ষা করে দল ত্যাগ করা কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। প্রতীক উরের এই আচরণ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, তার রাজনৈতিক মনোভাব দায়িত্বহীন এবং স্বার্থসিদ্ধিমূলক।
তাঁর পদক্ষেপে দেখা যায়, তিনি কোনো নৈতিক সীমারেখা মানেন না। দলের অভ্যন্তরে থাকাকালীন যেভাবে সহকর্মীর প্রতি অবহেলা করেছেন, সেটি তৎকালীন সহকর্মী ও সাধারণ মানুষকে একটি প্রশ্ন জাগাতে বাধ্য করেছে, এই নেতা কি সত্যিই মানুষের কল্যাণের জন্য লড়াই করেন, নাকি কেবল নিজের স্বার্থ পূরণের জন্য রাজনীতিতে থাকেন? প্রতীক উরের আচরণ উত্তর দিয়েছে, নিজের স্বার্থই তার একমাত্র লক্ষ্য।
বামপন্থার মূল নীতি, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণ, তিনি তুচ্ছ করেছেন। দল, আদর্শ, সহকর্মীর আবেগ, সবই তিনি নিজের সুবিধা ও স্বার্থের কাছে তুচ্ছ করেছেন। একজন নেতা যিনি নিজের স্বার্থে সবকিছু বিসর্জন দিতে পারে, তার রাজনীতি আর কখনো নৈতিক বা আদর্শনিষ্ঠ হতে পারে না।
তৃণমূল যোগদান শুধু দলবদল নয়; এটি স্বার্থপরতার এক চরম প্রমাণ। প্রতীক উরের রাজনৈতিক কৌশল এখন স্পষ্ট, তিনি মানুষের কল্যাণ নয়, নিজের স্বার্থ, নিজের পরিচয় এবং নিজের সুবিধা নিয়েই ব্যস্ত। সেলিমকে অপমান করা, দলের ইতিহাস ও আদর্শকে উপেক্ষা করা, এসব তার চরিত্রকে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠে এই ঘটনা শুধু বিতর্ক তৈরি করেছে না, বরং তরুণ নেতৃত্বের জন্য একটি হুমকিস্বরূপ স্থাপন করেছে। নেতৃত্ব মানে কেবল পদ বা পরিচয় নয়, নেতৃত্ব মানে নৈতিকতা, শালীনতা এবং দায়িত্ববোধ। প্রতীক উরের উদাহরণ দেখাচ্ছে, যদি স্বার্থই প্রধান লক্ষ্য হয়, তাহলে রাজনৈতিক আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নির্বাসিত হয়।
শেষ পর্যন্ত, প্রতীক উরের পদক্ষেপ হলো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি ও অহংকারের এক খোলাসা। তার স্বার্থপরতা, সহকর্মীর অপমান এবং আদর্শের প্রতি অবহেলা, এসব কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন করছেন, এই নেতা কি সত্যিই তাদের জন্য লড়াই করছে, নাকি কেবল নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতির মঞ্চে? প্রতীক উরের আচরণ উত্তর দিয়েছে, নিজের স্বার্থ, আর কিছু নয়।
