
প্রথমবার এক বছরের শিশুকে নিয়ে বিমানে ওঠার কথা ভাবলেই অনেক বাবা–মায়ের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। যদি সে কাঁদে? যদি সহযাত্রীরা বিরক্ত হন? কিন্তু অভিজ্ঞ অভিভাবকদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি আর ধৈর্য থাকলে আকাশপথের ভ্রমণ মোটেও আতঙ্কের নয়, বরং উপভোগ্য অভিজ্ঞতাও হতে পারে।
সবচেয়ে আগে দরকার মানসিক প্রস্তুতি। সব কিছু পরিকল্পনা মতো চলবে এই প্রত্যাশা না রাখাই ভাল। কখনও শিশু শান্ত থাকবে, কখনও অস্থির হবে দুটোই স্বাভাবিক। তাই পরিস্থিতি যেমনই হোক, বাবা–মায়ের শান্ত থাকা জরুরি। শিশু অনেকটাই অভিভাবকের মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।
ভ্রমণের সাফল্যের চাবিকাঠি গুছিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া। একটি পরিপাটি ডায়াপার ব্যাগে রাখতে হবে অতিরিক্ত পোশাক, ডায়াপার, ভেজা টিস্যু, শিশুখাদ্য, বোতল, জল এবং প্রিয় খেলনা। স্ট্রলার বা বেবি ক্যারিয়ার অনেকের কাছে বাড়তি ঝামেলা মনে হলেও বিমানবন্দরে চলাফেরা ও বোর্ডিংয়ের সময় তা ভীষণ কাজে আসে। উড়ানের আগে ডায়াপার বদলে দেওয়া ও আরামদায়ক পোশাক পরানো ভাল।
খাওয়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিমান উড়ান ও অবতরণের সময় স্তন্যপান বা বোতলে দুধ খাওয়ালে কানে চাপ লাগার অস্বস্তি কমে। এতে শিশু তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে। বিমানবন্দরে আগে কিছুটা খেলাধুলার সুযোগ দিলে শিশুর ঘুমও আসতে পারে, ফলে যাত্রা সহজ হয়।
টডলারদের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ একটু বেশি। তারা চারপাশের সব কিছু ধরতে ও দেখতে চায়। যতক্ষণ পর্যন্ত কারও অসুবিধা হচ্ছে না, ততক্ষণ কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়াই ভাল। প্রয়োজনে কেবিন ক্রু বা সহযাত্রীদের সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না অধিকাংশ মানুষই সহানুভূতিশীল।
শেষ পর্যন্ত এই ভ্রমণই একদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাই অকারণ ভয় নয়, প্রস্তুতি নিয়েই শুরু হোক আকাশযাত্রা।
