
বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান। দিল্লির একটি ফ্যামিলি কোর্ট তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে প্রায় ৫.৭২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের এই রায়কে ধাওয়ানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ধাওয়ান ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছিল। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি পারিবারিক আদালত ‘প্রপার্টি সেটেলমেন্ট’-এর ভিত্তিতে ধাওয়ানকে তাঁর স্ত্রীকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিতে বলেছিল। সেই নির্দেশ মেনেই তিনি প্রায় ৫.৭২ কোটি টাকা প্রদান করেছিলেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে পরে ভারতের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শুনানিতে দিল্লির ফ্যামিলি কোর্ট জানায়, অস্ট্রেলিয়ার আইনে ‘প্রপার্টি সেটেলমেন্ট’ একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা হলেও ভারতীয় বৈবাহিক আইনে সেই ধারণা একইভাবে প্রযোজ্য নয়। ফলে বিদেশি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া ওই অর্থ ভারতীয় আইনের নিরিখে বৈধ বলে ধরা যায় না বলেই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
মামলার সমস্ত নথি ও আগের নির্দেশ খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, ধাওয়ানের দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়াই উচিত। সেই অনুযায়ী তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে প্রায় ৫.৭২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিকেটমহল ও আইনি মহলে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের একসময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ওপেনার হিসেবে ধাওয়ান দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। টেস্ট, একদিনের এবং টি-টোয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের বহু সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহুবার খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। বিয়ে, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি আলোচনায় ছিল। সেই পরিস্থিতিতে আদালতের এই রায় ধাওয়ানের জন্য বড় আইনি স্বস্তি বলেই মনে করছেন অনেকে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে বিদেশি আদালতের নির্দেশ এবং ভারতীয় আইনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিবাহ এবং বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় কোন আইনের ভিত্তিতে আর্থিক নিষ্পত্তি হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই রায় ধাওয়ানের ব্যক্তিগত জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
