
আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে প্রস্তুতি শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার সমস্ত বিধায়ককে বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত রাজ্যসভা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে সই করানোর জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। বিধানসভায় উপস্থিত থেকে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই বিধায়কদের হাজিরা নিশ্চিত করতে চাইছে শাসক শিবির। দলীয় পরিষদীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট দিনেই প্রস্তাবকদের সই করিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট পাঁচটি আসনে ভোট হবে। বিধানসভায় বর্তমান আসনসংখ্যার নিরিখে চারটি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে একটি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্রার্থীর। যদি তৃণমূলের চারজন এবং বিজেপির একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন, তবে নির্বাচন হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই দিনই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। এরপর ৬ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে। প্রার্থীরা চাইলে ৯ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। যদি ভোটের প্রয়োজন হয়, তাহলে ১৬ মার্চ ভোটগ্রহণ এবং সেদিনই ভোট গণনা হবে। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ২০ মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলা থেকে রাজ্যসভার কয়েকজন সাংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যাঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী। এছাড়া আগে দল ছাড়ার পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন মৌসম নুর। ফলে তাঁর আসনটিও এখন খালি রয়েছে। অন্যদিকে বামফ্রন্টের সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-র আসনের মেয়াদও শেষ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আগেভাগেই সংগঠনিক প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে তৃণমূল। সম্ভাব্য ভোটের পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিধায়কদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা ও কৌশলের লড়াই শুরু হতে পারে।
