
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক ভর্তি ড্রামের বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হওয়া ৯ বছরের সাদিকুল আহমেদের মৃত্যু হল। বুধবার ভোরে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে খড়গাছি এলাকায়। একই সঙ্গে ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খড়গাছি এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় রাস্তার পাশে প্রায় ২০০ লিটার লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) ভর্তি একটি ড্রাম রাখা ছিল। এলাকায় কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। হঠাৎ সেই ড্রামে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে ঝলসে যায় চার নাবালক।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহত শিশুদের উদ্ধার করে নলমুড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল সাদিকুলের। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও বুধবার ভোর পাঁচটা পঞ্চান্ন নাগাদ তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি দুই শিশুর অবস্থাও গুরুতর হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন এত বিপজ্জনক রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি তাঁদের।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাস্তার কাজের সময় যদি যথাযথ সতর্কতা নেওয়া হত এবং ওই ড্রামটি নিরাপদ জায়গায় রাখা হত, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এখন এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে এলাকায়।
