
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের দাবি করলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য বড় সংঘাত থামাতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারত এবং তাতে কোটি কোটি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাঁর কথায়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত দ্রুত ভয়ঙ্কর দিকে এগোচ্ছিল। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নাকি তাঁকে বলেছেন, তিনি উদ্যোগ না নিলে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারত। সেই কারণেই সংঘাত থামাতে তিনি কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত–পাক উত্তেজনার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার এই দাবি করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনাকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করেই তিনি দুই দেশকে সংঘাত কমানোর বার্তা দেন। তিনি নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি দুই দেশ নিজেদের মধ্যে সমস্যা না মেটায়, তাহলে বাণিজ্য আলোচনাও বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহলগামে জঙ্গি হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। তার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি মানতে নারাজ ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ১০ মে যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে ভারত ও পাকিস্তানের সরাসরি আলোচনার ফল। এতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ভারত সরকার।
ফলে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
