
মহারাষ্ট্রের বারামতীতে লিয়ারজেট বিমান দুর্ঘটনায় তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর সাম্প্রতিক বিশেষ সেফটি অডিটে একাধিক গুরুতর গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পরিচালিত একটি লিয়ারজেট বিমান বারামতীর কাছে ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই ধরা হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে আসতে শুরু করেছে।
ডিজিসিএ-র তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিমান পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি ছিল। বিশেষ করে বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার হাতে থাকা বাকি চারটি লিয়ারজেট বিমান সাময়িকভাবে উড়ান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। যতদিন না সমস্ত নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে মেনে চলা হচ্ছে, ততদিন এই বিমানগুলি আকাশে উঠতে পারবে না বলেই জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার আগেই অজিত পাওয়ারের ভাইপো এবং এনসিপি (এসপি) নেতা রোহিত পাওয়ার দুর্ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, এটি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিমানে অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাঙ্ক থাকার পাশাপাশি পাইলটের অতীতে মদ্যপানের অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনাও সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোহিত পাওয়ার। তাঁর দাবি, বিমান সংস্থার সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তিনি সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কথা। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পরই গোটা ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
