
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই আবহেই বড় দাবি করলেন বিজেপি নেতা Dilip Ghosh। তাঁর কথায়, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি নাম বাদ পড়তে পারে, যে আশঙ্কার কথা বিরোধীরা আগে থেকেই তুলে আসছিল।
দিলীপ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এরপর যাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক অনুপস্থিত ছিলেন। শুধুমাত্র এই অনুপস্থিতির কারণেই প্রায় ৫০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির জেরে আরও প্রায় ৩৫ লক্ষ নাম প্রশ্নের মুখে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দেড় কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলেই মন্তব্য বিজেপি নেতার।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপের বক্তব্য, এতে বিজেপির আগের পরিসংখ্যান কার্যত সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই শাসকদল এসআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেলে রাজনৈতিকভাবে কার লাভ, কার ক্ষতি—এই প্রশ্নও উঠছে। দিলীপ ঘোষের দাবি, এতে বিরোধী পক্ষই শেষ পর্যন্ত সুবিধা পাবে। তাঁর মতে, তৃণমূলের কিছু প্রভাবশালী নেতার এলাকায় গড়ে প্রায় ৭০ হাজার করে নাম বাদ পড়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের মোট ভোটারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। এতদিন যাঁরা জিতেছেন, তাঁদের ভোটভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই হিংসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, স্পষ্টতই রাজনৈতিক। দেড় কোটির অঙ্ক এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা কী ছবি তুলে ধরবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
