
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার অমীমাংসিত নামের তথ্যের সঙ্গে রাজ্যবাসীর আগ্রহ রাতের মধ্যে চরমে পৌঁছেছে। রাত পোহালেই এসআইআর-এর তালিকা প্রকাশিত হবে, যেখানে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম থাকবে। তালিকায় তিন ভাগে নাম দেখানো হবে ‘অ্যাপ্রুভড’, ‘ডিলিটেড’ এবং ‘অমীমাংসিত’। যাঁরা স্ক্রিনিংয়ে পাশ করেছেন এবং যাঁদের কোনো সমস্যা নেই, তাঁদের নাম ‘অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে দেখানো হবে। স্থানান্তরিত বা মৃত ভোটারদের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ, যাদের আলাদা করে তালিকাভুক্ত করা হবে।
এবার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে প্রায় ৬০ লক্ষ অমীমাংসিত ভোটারের ওপর। এই ভোটারদের নাম তালিকায় থাকলেও তাঁদের পাশে উল্লেখ থাকবে, কোন কারণে নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁদের ভোটাধিকার প্রায়ই জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার অমীমাংসিত ভোটার সংখ্যা বৈচিত্র্যময়। মুর্শিদাবাদে ৬ লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ৯০ হাজার, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ২০ হাজার, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১ লক্ষ এবং মেদিনীপুরে ৮০ হাজার ভোটার অমীমাংসিত রয়েছেন। এছাড়াও, উত্তর কলকাতায় ৬০ হাজার এবং দক্ষিণ কলকাতায় ৭৮ হাজার ভোটারের নাম এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল জানান, “তালিকায় মোট ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ভোটারের নাম থাকবে। এর মধ্যে ডিলিটেড ভোটারদের নাম আলাদা লেখা থাকবে, আর অমীমাংসিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫।”
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা অনলাইনে দেখা যাবে। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বিডিও অফিস এবং কমিশন নির্ধারিত সরকারি অফিসে সরাসরি তালিকা দেখা সম্ভব হবে। ভোটারেরা চাইলে নিজেদের তথ্য যাচাই করতে এবং নিশ্চিত করতে পারবে যে তাঁদের নাম ঠিকভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অমীমাংসিত ভোটারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য কমিশন নিয়মিতভাবে সব ধরনের তথ্য আপডেট করছে। রাজ্যবাসী এবার রাতেই জানতে পারবেন, কোন জেলায় কত ভোটারের নাম এখনও অমীমাংসিত রয়েছে এবং ধাপে ধাপে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
এই তালিকা প্রকাশের আগে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। অনেকে ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা যাচাই করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে ভোটাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা যায়। ভোটারের তথ্য সঠিক রাখার এই উদ্যোগ রাজ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
