
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬–এর আবহে ফের জল্পনার কেন্দ্রে সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। শনিবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে ভেসে বেড়াচ্ছে খবর এদিন বিকেলে নাকি তিনি কালীঘাটে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। যদিও এই খবরের সরকারি কোনও নিশ্চিতকরণ নেই, তবু তা ঘিরে চর্চা তুঙ্গে।
সম্প্রতি ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান পাওয়ার পর থেকেই ইমন আলোচনায়। তার আগে তিনি ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানেও ভূষিত হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্মান গ্রহণের পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে সমর্থন ও সমালোচনা দুই-ই বাড়ে। একাংশের দাবি, সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার নেওয়া শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, শাসকদলের এত ঘনিষ্ঠতা কি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ইঙ্গিত?
এর মধ্যেই ছড়ায় আরেক গুঞ্জন আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এ তাঁকে প্রার্থী করতে পারে All India Trinamool Congress। শোনা যায়, হুগলির একটি আসন থেকে প্রস্তাবও গিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মেলে, ইমন নাকি নিজেই রাজনৈতিক প্রার্থী হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিল্পী হিসেবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখাই তাঁর পছন্দ এমন কথাও ঘনিষ্ঠ মহলে শোনা যায়।
তবে রাজনীতির সঙ্গে ইমনের পরিচয় নতুন নয়। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে রাজনৈতিক পরিসর তাঁর অচেনা নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে সাংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখদের নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়া বাংলার রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়।
সম্প্রতি তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলেছে আরও কয়েকজন তারকার ক্ষেত্রেও। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে গায়ক অনেকেই শাসকদলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। ফলে ইমনের সম্ভাব্য কালীঘাট সফর ঘিরে আগ্রহ বাড়াই স্বাভাবিক।
তবে বাস্তবে সাক্ষাৎ হবে কি না, হলে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য কতটা তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত সবটাই জল্পনা। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তার আগে পর্যন্ত কালীঘাটমুখী ইমন এই গুঞ্জনেই জমে উঠেছে ভোটের হাওয়া।
