
তেহরান: ইজরায়েল–আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর তেহরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন একটাই এবার ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে? দেশজুড়ে শোকের আবহের মধ্যেই ক্ষমতার অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তৎপরতা। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক জারি হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহেলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর তাঁর বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পহেলভি ক্ষমতাচ্যুত হলে তিনি দেশ ছাড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় বসবাস করছেন রেজা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ইরানে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের মাধ্যমে “নতুন অধ্যায়” শুরু হতে পারে। মার্কিন রাজনীতির একাংশের সমর্থনও রয়েছে তাঁর পক্ষে এমনটাই কূটনৈতিক মহলের দাবি।
তবে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এত সহজ নয়। সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর হাতে। আপাতত একটি অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিল প্রশাসনের দায়িত্ব সামলাচ্ছে। এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিক আলি লারিজানি এবং খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা খামেনেইয়ের নামও ঘুরছে আলোচনায়, বিশেষ করে রিভোলিউশনারি গার্ডসের একাংশের সমর্থনের জল্পনায়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজতন্ত্রে ফেরার সম্ভাবনা যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি প্রতীকী। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ধর্মীয়-রাজনৈতিক কাঠামোর উপর দাঁড়ানো। ফলে এক ঝটকায় সেই কাঠামো ভেঙে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়া সহজ নয়। আবার দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা এড়াতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে সাধারণ ইরানিরা এখন স্থিতিশীলতা চান। অর্থনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ভবিষ্যতের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খামেনেই-পরবর্তী ইরান কোন পথে হাঁটবে রাজতন্ত্র, ধর্মতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নাকি একেবারে নতুন রাজনৈতিক সংস্কার সেই উত্তরই এখন গোটা বিশ্বের নজরে।
