
ওমান উপকূলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলা। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহে এই হামলা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পালাউ-এর পতাকাবাহী ‘স্কাইলাইট’ নামক ট্যাঙ্কারটিকে খাসাব বন্দরের উত্তর দিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ট্যাঙ্কারটিতে থাকা ২০ জন কর্মীর মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি নাগরিক ছিলেন। তাঁদের সকলকেই নিরাপদে সরিয়ে আনা হলেও, তাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া ওমানের দুকুম বন্দরেও ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) রেডিও বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ঘোষণা দেয়নি, তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় থাকা জাহাজগুলোকে ভিএইচএফ (VHF) বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, কোনও জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। ব্রিটিশ নৌবাহিনী এই নির্দেশকে আইনত বাধ্যতামূলক নয় বললেও জাহাজগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং কাতার থেকে আসা এলএনজি (LNG)-র একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বার্কলেস-এর বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ থমকে যেতে পারে।
নিরাপত্তার খাতিরে হ্যাপাগ-লয়েড এবং সিএমএ সিজিএম-এর মতো বড় শিপিং সংস্থাগুলো এই পথে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অন্তত ১৪টি এলএনজি ট্যাঙ্কার তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বা মাঝপথে থেমে গেছে। অন্যদিকে, সমুদ্র বিমা সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর বিমা কভারেজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা জাহাজ মালিকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘ মেয়াদে অবরুদ্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
