
বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বাংলায় নিরাপত্তা ঘিরে নজিরবিহীন তৎপরতা। রাজ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। প্রথম দফার ২৪০ মিলিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮০ কোম্পানি। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে কোন জেলায় কত বাহিনী, আর কেন এত আগাম মোতায়েন?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবারের ভোট ঘিরে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। একদিকে আসন্ন West Bengal Legislative Assembly election, 2026, অন্যদিকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ সব মিলিয়ে প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা চাইছে। তাই ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে ঢুকতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
প্রথম দফায় যে ২৪০ কোম্পানি এসেছিল, তারা ইতিমধ্যেই নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে গিয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফার বাহিনীও ভাগ করে পাঠানো হচ্ছে স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে। সবচেয়ে বেশি মোতায়েন হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৩৩ কোম্পানি। বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৩, ডায়মন্ড হারবারে ১১ এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ৯ কোম্পানি থাকবে।
তারপরেই গুরুত্ব পেয়েছে কলকাতা। শহরে মোতায়েন হচ্ছে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ এবং পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২০ করে কোম্পানি থাকবে। ব্যারাকপুর কমিশনারেটে ১৯, মালদহে ১৮, জঙ্গিপুরে ১৫ এবং হাওড়া কমিশনারেটে ১০ কোম্পানি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই বাহিনীর মধ্যে রয়েছে Central Reserve Police Force, Border Security Force, Central Industrial Security Force, Indo-Tibetan Border Police ও Sashastra Seema Bal। ইভিএম ও স্ট্রংরুম পাহারা, রুট মার্চ, বুথ নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের মূল দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। শাসক-বিরোধী তরজাও তীব্র। ইতিমধ্যেই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
ভোটের আগেই বাংলার আকাশে যেন নিরাপত্তার কড়া নজরদারি। ৪৮০ কোম্পানির উপস্থিতি কি অশান্তির পূর্বাভাস, নাকি আগাম সতর্কতা? এখন নজর নির্বাচন ঘোষণার দিনক্ষণে।
