
রাজ্য সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি এ বার পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীরাও ২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। West Bengal Health Scheme-এর আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের কথা জানিয়ে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল।
এতদিন পর্যন্ত প্যানেলভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা মিলত। কর্মরত সরকারি কর্মীরা বিশেষ পরিস্থিতিতে ওই সীমার বাইরে মেডিক্যাল অ্যাডভান্স পেলেও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ ছিল না। ফলে জটিল অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে খরচ ২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেলে প্রবীণদের উপর আর্থিক চাপ বাড়ত। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সমস্যারই সমাধান হল বলে মনে করছে প্রশাসন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগী বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধি নির্দিষ্ট সি-৭ ফর্ম জমা দিয়ে হাসপাতালের মাধ্যমে ক্যাশলেস সীমা বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। হাসপাতালকে সর্বোচ্চ ১০ দিনের সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচের বিস্তারিত হিসাব, চিকিৎসার ধরন (প্যাকেজ বা নন-প্যাকেজ) এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট তৈরি করে অনলাইনে মেডিক্যাল সেলে পাঠাতে হবে।
সম্পূর্ণ নথি পাওয়ার ২৪ কর্মঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল সেলকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে হাসপাতালের পাঠানো অনুমানিত খরচের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হবে। তবে প্রতিটি অনুমোদনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ দিন এবং আইপিডি চলাকালীন প্রয়োজনে একাধিকবার আবেদন করা যাবে।
রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট ২০২৬-এ এই সুবিধা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আগের মতো সম্পূর্ণ ক্যাশলেস সুবিধা বহাল থাকবে। তার বেশি খরচ হলে অতিরিক্ত অর্থের ৭৫ শতাংশ সরকার বহন করবে এবং বাকি ২৫ শতাংশ পেনশনভোগীকে দিতে হবে।
তবে এই সুবিধা পেতে হলে রাজ্য সরকারের প্যানেলভুক্ত হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে হবে। হাসপাতালটি সরকারি না বেসরকারি, তা গুরুত্বপূর্ণ নয় প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত থাকলেই চলবে। প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্তে বহু প্রবীণ নাগরিকের চিকিৎসাজনিত আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে।
