
নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে কয়েক হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার দোল ও হোলি উৎসব উপলক্ষে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ ও ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৪৭,০৯৪ জন ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং আরও ১৪,১৫৪ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছে সবটাই পরিকল্পিত।
নির্বাচন কমিশন বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে এবং মাইক্রো-অবজারভাররা বিজেপি অফিসারের মতো আচরণ করছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিয়ের পর বাড়ি বদলানো মহিলা বা প্রকৃত ভোটারদের তথ্য দেওয়ার পরেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সত্ত্বেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র। সেখান থেকে জেনেশুনে নাম কাটা হয়েছে। তবুও আমি বলছি, এক ভোটে হলেও আমিই জিতব।” এই অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি প্রয়োজনে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশবাসীর নৈতিক সমর্থন চেয়েছেন। বিজেপি-র ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ও রথযাত্রাকে কটাক্ষ করে তিনি একে ‘বিনাশ যাত্রা’ বলে অভিহিত করেন।
ভোটার তালিকায় এই বিশৃঙ্খলার জন্য বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) দোষারোপ করার বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রচণ্ড মানসিক চাপে একজন বিএলও-র ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। তাঁর মতে, কর্মীরা ভালো কাজ করলেও বিজেপি নেতারা তাঁদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন এবং দিল্লির দলীয় কার্যালয় থেকে নাম কাটার নির্দেশ আসছে।
অনুষ্ঠানের শেষে দোল উৎসবের সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জৈন কমিটির অনুরোধে নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা গেটের পাশে জৈন মন্দির তৈরির জন্য জমি বরাদ্দ করা হচ্ছে।
