
রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় গিয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। একই দিনে বিজেপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা রাহুল সিনহাও। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের বক্তব্যও পেশ করেছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার স্বামী নিসপাল সিং রানের সঙ্গে বিধানসভায় এসে মনোনয়ন পেশের করেন কোয়েল। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এটা একটা গুরুদায়ীত্ব। সবার ভালবাসা ও আশীর্বাদ যেন আমার সঙ্গে থাকে। অনেক অনেক মানুষের যেন সেবা করতে পারি। দেশের সেবায় যেন সক্ষম হতে পারি, অনেক মানুষের যেন উপকারে আসতে পারি….। এটা তো একটা মহৎ দায়ীত্ব। দেশের সেবা, মানুষের সেবা -এর থেকে তো মহৎ কাজ হতে পারে না। এর জন্য আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে করি, আমাকে এমন জায়গার জন্য নির্বাচন করার জন্য।”
এদিকে এদিন নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই বিধানসভায় পৌঁছে যান রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পর এবার সংসদীয় রাজনীতির পথে পা বাড়াতে চলা রাজীব কুমারের গলায় শোনা গেল মাদার টেরেসার উক্তি। এদিন তিনি বলেন, “আমি মনে করি না ভগবান আমাকে এমন কোনও দায়িত্ব দিতে পারেন, যা আমি পালন করতে পারব না।” অন্যদিকে, এদিন বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীও নিজেদের মনোনয়ন পত্র পেশ করেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভার ৩৭টি আসনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ এবং তা যাচাই করা হবে ৬ মার্চ। নাম প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ মার্চ। আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১০টি রাজ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ জন রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল। তৃণমূলের সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর পাশাপাশি সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও একই দিনে শেষ হচ্ছে। এ ছাড়া তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নূর আগেই ইস্তফা দেওয়ায় ওই আসনটিও বর্তমানে খালি রয়েছে।
