
রেলের নিয়ম মেনে ৯ ঘণ্টার ডিউটি শেষ, তাই আর এগোবে না ট্রেন। বিহারের ঠাকুরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এক লোকো পাইলটের এমন অনড় সিদ্ধান্তে বুধবার তৈরি হল কার্যত নজিরবিহীন পরিস্থিতি। চালকের সাফ কথা—নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করা রেলের নিয়মের পরিপন্থী। আর এই ‘নিয়ম’ পালন করতে গিয়ে মাঝপথে কয়েক ঘণ্টা আটকে রইল শয়ে শয়ে যাত্রী বোঝাই ট্রেন।
বুধবার মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী ডেমু (DEMU-75719) ট্রেনটি দুপুর ২টো ৫২ মিনিট নাগাদ বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই জানা যায়, ট্রেনটি আর এগোবে না। লোকো পাইলট রেল কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর ৯ ঘণ্টার ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই তিনি আর ট্রেন চালাবেন না।
রেলওয়ের গাইডলাইন অনুযায়ী, নিরাপত্তার খাতিরে একজন লোকো পাইলট টানা ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারেন না। সেই নিয়মকেই হাতিয়ার করে চালক ট্রেন থেকে নেমে যান। এর ফলে প্রায় তিন ঘণ্টা ঠাকুরগঞ্জ স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। শিলিগুড়ি ও কিষাণগঞ্জগামী ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ যাত্রীরা এই তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে রেল আধিকারিকরা বিপাকে পড়েন। চালককে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষমেশ বিকল্প চালকের ব্যবস্থা করার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
রেলের অন্দরে নিয়মনিষ্ঠার প্রশংসা থাকলেও, সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন—বিকল্প চালকের ব্যবস্থা আগে থেকে কেন রাখা হয়নি? একজনের ডিউটি শেষ হওয়ার খেসারত কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে?
