
ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়ে সেই ইতিহাসের পথেই এগোলেন বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দেন তিনি। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী অরুন্ধতী কাটজু।
মেনকা গুরুস্বামী দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী ব্যক্তি হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় যাওয়ার পথে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রান্তিক লিঙ্গযৌনতার স্বীকৃতি ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। অনেক রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল মতাদর্শের কথা বললেও সংসদীয় পরিসরে এই ধরনের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলই প্রথম পদক্ষেপ নিল বলে মত অনেকের।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মেনকা বলেন, এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। একজন সংবিধান বিষয়ক আইনজীবী হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার কথা বলে। সংসদে থেকে তিনি সেই সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান।
আইনি জগতে মেনকা গুরুস্বামী একটি পরিচিত নাম। সমকামিতা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ‘নভতেজ সিং জোহর বনাম ভারত সরকার’ মামলায় তিনি আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে সমকামী সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা বাতিল করা হয়। আইনি মহলের মতে, সেই মামলায় মেনকার যুক্তি আদালতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এছাড়াও আধার প্রকল্প সংক্রান্ত মামলায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই করেছেন তিনি। বিচারপতি কে. এস. পুট্টুস্বামী মামলায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
এতদিন আদালতের ভেতরেই তাঁর সাংবিধানিক লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সেই লড়াই পৌঁছতে চলেছে সংসদের মঞ্চে। আর সেই পথ তৈরি করল তৃণমূল কংগ্রেস।
