
পটনা: দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রে থাকা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবার নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, তাঁর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?
বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন নীতীশ কুমার। তার আগে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন। সূত্রের খবর, শাহের উপস্থিতিতেই তিনি মনোনয়ন পেশ করেন। এই ঘটনার পরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবার বিজেপির তরফেই মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। ইতিমধ্যে তিনটি নাম বিশেষভাবে সামনে এসেছে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এবং প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল। এদের মধ্যে সম্রাট চৌধুরী ও নিত্যানন্দ রাইয়ের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
এছাড়াও আরেকটি নাম সামনে এসেছে। দিঘা বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচবারের বিধায়ক সঞ্জীব চৌরাসিয়াকেও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। ফলে শেষ পর্যন্ত কে বিহারের মসনদে বসবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অন্দরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে জেডিইউ শিবিরে আরও একটি সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি।
অন্যদিকে, জেডিইউ-র প্রবীণ নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং, যিনি লালন সিং নামেও পরিচিত, বৃহস্পতিবার দিল্লি উড়ে গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, তিনি অমিত শাহের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দিল্লি গিয়েছেন। সূত্রের দাবি, বিহারে নতুন সরকার গঠন এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে, তা স্পষ্ট। ফলে এখন সকলের নজর দিল্লির দিকে।
এদিকে নীতীশ কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বিহারের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। সেই বিশ্বাসের জোরেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে বিহার ও আপনাদের সেবা করেছি।” একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
