
রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ফের কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে চলা ধরনা কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে তিনি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। মমতার আহ্বান, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা যেন হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা-খুন্তি হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
শনিবার সকালে ধরনা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এক ধাক্কায় রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তার আগেও কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ৪৯ টাকা। এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর বিরাট চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বড় সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ২১০০ টাকায় পৌঁছেছে এবং ছোট সিলিন্ডারের দামও প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে রান্নার খরচ সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, গ্যাস শেষ হয়ে গেলে যদি ২১ দিন আগে থেকে বুকিং করতে বলা হয়, তাহলে সেই সময়ের মধ্যে মানুষ কীভাবে রান্না করবে। তাঁর কথায়, “যার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে, সে কি ২১ দিন রান্না না করে থাকবে? মানুষ তাহলে খাবে কী?” এই পরিস্থিতিকে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুতর সমস্যা বলে উল্লেখ করেন।
এই ইস্যুকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি। মমতার আহ্বান, সমাজের সব স্তরের মহিলারা যেন এই আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি বলেন, “গ্যাস নাই, রান্না নাই, গ্যাস নাই, খাবার নেই। তাই হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে।” তিনি আরও বলেন, চাইলে অনেকেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে গ্যাসের ওভেন বা কাঁচা আনাজের ঝুড়িও সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন। এমনকি কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে হোটেল ও রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হয়েছে প্রায় ১৯৯০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ী ও হোটেল শিল্পের উপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মহিলাদের অংশগ্রহণে এই মিছিল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই প্রতিবাদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
