
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে সরানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফের একবার কেন্দ্রের দিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “বোসকে কেন সরানো হয়েছে আমি সব জানি।” যদিও তিনি স্পষ্টভাবে সকল তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজনীতির মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “ভয় দেখানো হয়েছে, থ্রেট করা হয়েছে। অনেকে চায় রাজভবন যেন বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত হয়। ওখান থেকে টাকা বিলি হোক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তিনি শুনেছেন যে তাঁকে তামিলনাড়ুতে থাকা অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের অনেক কমেন্ট শুনতে হয়েছে। মমতার কথায়, “তামিলনাড়ুতে যা করেছেন করেছেন, বাংলা কিন্তু অন্য।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, “কেউ বলছে বাংলা, বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করবে। ওদের ধান্দাবাজি হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করার। আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।” তিনি বিহার ও ঝাড়খণ্ডকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, তৃণমূল যতক্ষণ রাজ্যে থাকবে, কেউ বাংলার গায়ে আছড় কাটতে পারবে না।
মমতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যপাল পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্রের ওপর প্রকাশিত এই সরাসরি আক্রমণ ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের মন্তব্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, মমতা ধনখড় পর্বের উদাহরণ টেনে বলেন, “ধনখড়কে নিয়ে উপরাষ্ট্রপতি করা হলো। নজরবন্দি করা হলো। অজিত পাওয়ার কেসেও বলেছিলাম, ভালো করে তদন্ত করা উচিত। দিল্লিতে যারা বসে আছে তারা তো মহম্মদ বিন তুঘলকের জ্যাঠার জ্যাঠামশাই।” তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি রাজ্যপালের পরিবর্তনকে কেবল প্রশাসনিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন না, বরং তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ধরনার প্রেক্ষাপটে মমতার এই মন্তব্য ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও নির্বাচনী মেরুকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য রাজনীতির মঞ্চে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। মমতার প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রের নীতিনির্ধারকদের জন্যও নজরকাড়া ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
