
সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেনসেক্স ও নিফটির সূচকে বড় পতন দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন এই পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং অনেকেই বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সোমবার সকাল ৯টা ৪৭ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স সূচক ২৩০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। ফলে সূচক নেমে আসে প্রায় ৭৬ হাজার ৬০৮ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি-৫০ সূচকও প্রায় ২.৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টের নীচে নেমে যায়। প্রায় ৯ মাস পর এত বড় পতনের সাক্ষী হল ভারতীয় শেয়ার বাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১১৭ মার্কিন ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৬০০ টাকার সমান। তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করছে।
তেলের দামের এই বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি নির্ভর সংস্থাগুলির শেয়ারের উপর। বাজার খোলার পরই তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম দ্রুত পড়তে শুরু করে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC)-এর শেয়ার প্রায় ৬.৬৭ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (HPCL)-এর শেয়ার প্রায় ৭.৭৫ শতাংশ পড়ে। ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL), গেইল (GAIL) এবং সাভিতা অয়েলের মতো সংস্থাগুলির শেয়ারেও বড় ধাক্কা লাগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়ে, শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিক্রির চাপও বাড়ছে।
তবে এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি ক্ষেত্রের কিছু সংস্থার শেয়ারে উল্টো গতি দেখা যাচ্ছে। কয়লা, তাপবিদ্যুৎ এবং জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত সংস্থাগুলির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ তেলের সংকট দেখা দিলে অনেক দেশই বিকল্প জ্বালানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার প্রভাব শুধু শেয়ার বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে দেশে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতির উপরও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতির দিকে এখন সতর্ক নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
