
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংঘাত নিয়ে এবার সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার রাজ্যসভায় তিনি জানান, পরিস্থিতির উপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে সরাসরি নজর রাখছেন এবং ভারত সরকার গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এই প্রেক্ষাপটেই সংসদের উচ্চকক্ষে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন জয়শঙ্কর। বিরোধী সদস্যদের স্লোগানের মাঝেই তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে একসঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সব মন্ত্রককে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং শাসক গোষ্ঠীর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হন বলে খবর। এরপর থেকেই দ্রুত অবনতি হতে থাকে পরিস্থিতি। সপ্তাহান্তে ইরানের তেলের ডিপো ও জল শোধনাগারে নতুন করে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জয়শঙ্কর সংসদে মনে করিয়ে দেন, এই অঞ্চলের অস্থিরতা নিয়ে ভারত সরকার আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেন, “২০ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার একটি বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।” তাঁর মতে, উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ হলো আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধান।
এই সংঘাত ভারতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ পশ্চিম এশিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মী ও পর্যটক বসবাস করেন। সেই কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে। জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে এবং তার প্রভাব অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেই জোর দিচ্ছে।
এদিকে বিরোধী সদস্যরা শক্তি সুরক্ষা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি তুলেছেন। তবে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটের দিকে ভারত কড়া নজর রাখছে।
