
আইসিসি পুরুষদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের অলরাউন্ডার Hardik Pandya। ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরে ট্রফি জয়ের মুহূর্তে তিনি এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন, যিনি নাকি তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম অনুপ্রেরণা। সেই নামটি হল তাঁর কথিত প্রেমিকা মাহিকা শর্মা। ম্যাচ শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হার্দিক বলেন, তাঁর জীবনে মাহিকা আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছেন এবং মাঠে পারফরম্যান্সও উন্নত হয়েছে।
হার্দিকের এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা কে এই মাহিকা শর্মা? কী করেন তিনি? এবং হার্দিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কতটা গভীর?
জানা গেছে, মাহিকা শর্মা পেশায় একজন মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও, ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনী প্রচারে কাজ করেছেন। ফ্যাশন জগতেও তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দেশের কয়েকজন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনারের শো–তে তিনি র্যাম্পে হেঁটেছেন। পাশাপাশি Tanishq, Vivo এবং Uniqlo–র মতো বড় ব্র্যান্ডের প্রচারমূলক কাজেও তাঁকে দেখা গেছে। ফলে বিনোদন ও ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ হিসেবেই ধরা হয় তাঁকে।
হার্দিক পান্ডিয়া এবং মাহিকার সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। সেই সময় মুম্বই বিমানবন্দরে ছুটি কাটাতে যাওয়ার সময় দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যায়। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের একাধিক ছবি ভাইরাল হতে শুরু করে। অনেক ভক্তই তাঁদের জুটিকে বেশ পছন্দ করতে শুরু করেন।
সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক ঘিরে নানা গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। শোনা যায়, একবার তাঁদের বাড়িতে হনুমান যজ্ঞের আয়োজন করার পরই বাগদানের জল্পনা শুরু হয়। এমনকি মাহিকার প্রেগন্যান্সি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুজব ছড়ায়। তবে এসব গুজবের জবাবে মাহিকা নিজেই ইনস্টাগ্রামে রসিকতার সুরে লিখেছিলেন যে ইন্টারনেটই যেন তাঁর জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বয়সের দিক থেকেও দু’জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মাহিকা সম্প্রতি তাঁর ২৫তম জন্মদিন পালন করেছেন, অন্যদিকে হার্দিক এই বছর ৩৩ বছরে পা দেবেন। অর্থাৎ তাঁদের বয়সের পার্থক্য প্রায় আট বছর।
উল্লেখ্য, এর আগে হার্দিক পান্ডিয়ার বিয়ে হয়েছিল অভিনেত্রী Natasa Stankovic–এর সঙ্গে। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে, যার নাম অগস্ত্য। তবে ২০২৪ সালে পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে শোনা যাচ্ছে, হার্দিকের ছেলে অগস্ত্যের সঙ্গেও মাহিকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মাঝেই হার্দিকের ব্যক্তিগত জীবনও এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর জীবনের এই নতুন অধ্যায় নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে ভক্তদের মধ্যে।
