
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Ajit Doval এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ Anil Chauhan। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয় বলে জানা গেছে।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর জানান, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির উপর ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। সরকার ইতিমধ্যেই ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অ্যাডভাইজরি জারি করেছে এবং তাঁদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তেহরানে ভারতের দূতাবাস সম্পূর্ণভাবে কার্যকর রয়েছে এবং সেখানে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া কাতার ও জর্ডনের মতো দেশেও যেসব ভারতীয় নাগরিক আটকে পড়েছেন, তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে সংসদে জানান জয়শঙ্কর।
তবে সংঘাতের প্রভাব যে ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি দুঃখজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী জানান, মার্চেন্ট শিপিং সংক্রান্ত ঘটনায় দু’জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জয়শঙ্করের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চল থেকেই দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয়। তাই সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের উপরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক কোটি ভারতীয় উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাস ও কাজ করেন। এছাড়া ইরানেও বহু ভারতীয় পড়াশোনা ও চাকরির জন্য রয়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের কাছে বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে জয়শঙ্কর বলেন, উত্তেজনা কমাতে সংলাপ এবং কূটনীতিই একমাত্র পথ। সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ভারত এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার পক্ষেই দেশটি রয়েছে।
