
ভারতের তৃতীয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে যখন গোটা দেশ মেতে উঠেছে, তখনই ভারতীয় ক্রিকেটে বহুদিনের এক অদ্ভুত সমীকরণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বর্তমান ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা চলেছে ক্রিকেট মহলে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনির একটি ছোট্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেন সেই পুরনো দূরত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল।
বিশ্বকাপ জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন ধোনি। সেখানে তিনি ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কোচ গৌতম গম্ভীরকে। ধোনি লেখেন, “কোচ সাহেব, আপনার হাসিটা বেশ মানাচ্ছে। হাসি আর তীব্রতা, এই জুটি মারাত্মক। খুব ভাল কাজ করেছেন।”
ধোনির এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকের মতে, কথাগুলিতে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই গম্ভীরের স্বভাবসিদ্ধ গম্ভীর মুখভঙ্গিকে ঘিরে মৃদু ঠাট্টার আভাসও রয়েছে। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীর মানেই দীর্ঘদিন ধরে এক কঠোর, নির্লিপ্ত ও তীক্ষ্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতীক। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পর দলের সঙ্গে উদযাপনের সময় তাঁর মুখে যে প্রশস্ত হাসি দেখা গিয়েছিল, সেটাকেই যেন তুলে ধরেছেন ধোনি।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের ম্যাচে গম্ভীর করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ৯৭ রান। যদিও শেষ পর্যন্ত ধোনির জয়সূচক ছক্কাই সেই ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে। বহুবার সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব পুরো দলের, কোনও একক ব্যক্তির নয়।
এবার সেই গম্ভীরই ভারতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য পেলেন। কোচ হিসেবে তাঁর এই অর্জনের জন্য ধোনির প্রকাশ্য প্রশংসা অনেককেই অবাক করেছে।
ধোনির পোস্টে আরও একটি অংশ দ্রুত ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহর প্রশংসা করেন। ধোনি লেখেন, “বুমরাহকে নিয়ে কিছু না বলাই ভাল। ও চ্যাম্পিয়ন বোলার।” ফাইনাল ম্যাচে বুমরাহর দুরন্ত বোলিংই কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত আসে যখন ধোনির সেই পোস্টের উত্তরে গৌতম গম্ভীর নিজেও মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “হাসার এর চেয়ে বড় কারণ আর কী হতে পারে! তোমাকে দেখে ভাল লাগল।”
এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে যে দূরত্বের কথা শোনা যেত, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে তা কি ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে?
যদি সত্যিই সেই বরফ গলতে শুরু করে, তবে সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন ভারতের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীই।
