
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে এবার অনশন মঞ্চে বসলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক উদয়ন গুহ। কোচবিহারের দিনহাটায় সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই গণ-অনশন কর্মসূচি। অভিযোগ, বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং পরিকল্পিতভাবে বহু সাধারণ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
উদয়ন গুহের দাবি, সীমান্তবর্তী দিনহাটায় ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে বিচারাধীন তালিকায় রেখে দেওয়া হয়েছে। জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের এই মন্ত্রী।
অনশন মঞ্চ থেকেই উদয়ন গুহ বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতায় আন্দোলন চলছে। সেই একই ইস্যুতে দিনহাটাতেও আমরা গণ অনশন শুরু করেছি। বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পদক্ষেপ করছে। তাঁর কথায়, “গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের। কিন্তু আমার রাজনৈতিক জীবনে এত পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন কখনও দেখিনি। কোথায় বিজেপির সুবিধা হবে, সেই হিসাব করেই কাজ হচ্ছে।”
বিজেপির দাবি, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেই প্রসঙ্গে উদয়ন গুহ পাল্টা বলেন, “যাঁরা সত্যিই অনুপ্রবেশকারী, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রোহিঙ্গা বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী খুঁজে পেলে বাদ দিন, দরকার হলে শাস্তিও দিন। কিন্তু সেই অজুহাতে সাধারণ মানুষের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া চলবে না।”
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, যেসব এলাকায় বিজেপি সংগঠনগতভাবে দুর্বল, সেখানেই পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পারছেন এবং আগামী নির্বাচনে তার জবাব দেবেন।
কতক্ষণ এই অনশন চলবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উদয়ন গুহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “শরীরে যতক্ষণ দম আছে, ততক্ষণ আমি অনশন চালিয়ে যাব।”
এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে এই ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, একদিকে কলকাতায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও দলীয় নেতাদের অনশন কর্মসূচি রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের কী জবাব দেয় এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
