
Jazzbaat 24 Bangla: ২৬-এর নির্বাচনের ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রবিবার বঙ্গ সফরে এসেছে নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। নির্বাচন কমিশনারের কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক হয়। সেখানে শাসকদলের প্রতিনিধিদের মতো অংশ নিয়েছিলেন বিরধীরাও। ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে কী বললেন বিজেপির প্রতিনিধিদরা?
জগন্নাথ সরকার বলেছেন, “বৈঠকে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে কমিশনের কাছে আমরা জানিয়েছি যে, নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা কি কি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।”
সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা মূলত চাই, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন হিংসা মুক্ত ও ভয় মুক্ত পরিবেশে হোক। এর জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে ১৬ দফা দাবি করেছি। তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদ্ব্যবহার। বাংলায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসার আগে প্রায় ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়েছে। কিন্তু রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার করছে তাতে আমরা অসন্তুষ্ট, সে কথা জানিয়েছি। তা পুনরুদ্ধার করা নির্বাচন কমিশনেরই কাজ। হিংসামুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং এখানকার সরকারি অফিসারদের যে তন্ত্র কাজ করছে, যারা চায়না ভোটাররা বেরিয়ে এসে নিজেদের ভোট দিক, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর এবং উদাহরণযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কমিশন আমাদের কথা শুনেছেন।”
সাংবাদিকদের সম্মুখীন হয়ে তাপস রায় বলেন, “তৃণমূল সরকার ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যত বার নির্বাচন হয়েছে, সে স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা হোক, পুরো নিগম হোক বা পুরো সভা হোক। বিধানসভা হোক বা লোকসভা হোক তা কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়নি। ভয়-সন্ত্রাস, ভয়ে ভীত করে নির্বাচন হয়েছে। তাই গণতন্ত্রকে এখানে পুনরুদ্ধার করার কাজ নির্বাচন কমিশনারের। এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা খোলাখুলি ভাবে থ্রেট করছে। এসবের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন তিনি থাকবেন। কিন্তু কে থাকবে সেটা দেবতা ও গণদেবতা জানেন। ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে প্রথম এবং শেষ কথা হল, আমরা হিংসা মুক্ত ভয় মুক্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই এ বাংলার মানুষের সেটাই চাই”।
তাপস রায় আরও বলেছেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কাটা মানে তো সংবিধানেরই আঙুল কাটা! তৃণমূলের এত বড় স্পর্ধা!
সোমবার রাজারহাটের ওয়েস্টিনে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন কমিশনার। বিজেপির প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন- জগন্নাথ সরকার, শিশির বাজোরিয়া, তাপস রায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট করেন।
